হলুদ খাম ।
" কত্তা এবার হিসেবটা সেরে ফেলেন কত্তা ।আশ্বিন মাস মানে পুজো তো এসেই গেলো ।" চৌধুরী মশাই বললেন," দাঁড়া রে করিম!এই তো মিটল সব কিছু "।করিম বসে আছে বড় উঠোনের মাঝখানটাতে ।আর চৌধুরী মশাই,জমিদার চৌধুরী মশাই বসে আছেন তাঁর চেয়ারটিতে বেশ কিছুটা তফাতে ।অসম্ভব সুন্দর তিনি ।কাঁচা সোনার মত গায়ের রঙ তাঁর,ছ ফুট তিন ইঞ্চি উচ্চতা ।সত্যি জমিদারি চেহারাই বটে ।রাস্তা দিয়ে যখন হেঁটে যান,তাঁর ঐ আলো করা রূপের দিকে অনেকেরই অজান্তে চোখ চলে যায় ।ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে ফেললাম কিছুটা ।যাই হোক ।চৌধুরী মশাই হাঁক পাড়লেন--" ওরে কে আছিস রে?আমার হিসেবের খাতাটা একটু দে দিকি!"কোনো পরিচারক এসে দিল খাতাটি ।তিনি খাতাটি নিয়ে বললেন,আর হ্যাঁ,"করিমকে হুঁকোটা দিসনি এখনো?দে!দে!দেখে দিস ।দেখে দিস বললেন,কারণ চৌধুরী মশাই ব্রাহ্মণ,আর করিম----,না ব্যবহারে কোনো খামতি নেই ।তবে সংস্কার তো আছেই ।হিসেবের খাতা খুলেই তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন--ওরে এর মধ্যে কে আবার একটা হলুদ-খাম রাখলো রে?কি যে করিস তোরা সব?আর ও খাম এলোই বা কোথা থেকে?হঠাৎ ছোট্ট একটি মেয়ে,খুব সম্ভবতঃ কোনো পরিচারিকার মেয়ে-টেয়ে হবে--সে এসে জমিদার বাব...